বুধবার, ১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সারিয়াকান্দিতে অবশেষে লাঘব হচ্ছে দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াত দুর্ভোগ

রহিদুর রহমান মিলন, সারিয়াকান্দি (বগুড়া): বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার উতুবপুর-সোলারতাইড় সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা সেতুর কারণে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহানো দুই গ্রামের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি চালু হলে সোলারতাইড় ও কালারতাইড় গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও স্বস্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সোলারতাইড় ও কালারতাইড় গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল একটি পুরোনো ও ভাঙাচোরা সেতু। সেতুটির বেহাল অবস্থার কারণে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতো। বিশেষ করে বাজারে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, খাল পারাপার এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। অনেক সময় বিকল্প পথে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো এলাকাবাসীকে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি এখন দৃশ্যমান। সেতুর মূল নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও রঙের কাজ বাকি রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

সম্প্রতি সরেজমিনে সেতু নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রোমান হোসেন জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্ধারিত নির্মাণপ্রক্রিয়া অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সেতুর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও রঙের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটি উদ্বোধন করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সেতুটি নির্মিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। ষাটোর্ধ্ব মালেক প্রামাণিক বলেন, “এই সেতুটি আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। ভাঙা সেতুর কারণে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এখন নতুন সেতু পেয়ে আমরা অনেক খুশি। এটি আমাদের এলাকার মানুষের জন্য অনেক বড় পাওয়া।”

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৪৫) বলেন, “আগে বাজারে যাতায়াত ও খাল পারাপারে অনেক সমস্যা হতো। অনেক দূর ঘুরে যেতে হতো। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতেও ভোগান্তি ছিল। নতুন সেতু নির্মাণ হওয়ায় এসব সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ হবে।”

স্থানীয় যুবক সুমন মিয়া বলেন, “সেতুটি নির্মাণ করে কর্তৃপক্ষ আমাদের অনেক বড় উপকার করেছে। দুই গ্রামের মানুষসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা এখন অনেক উপকৃত হবেন। সেতুটি চালু হলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী তুহিন সরকার জানান, জলাবদ্ধতার কারণে সেতুর নির্মাণকাজে কিছুটা সময় লাগলেও যথাযথ নির্মাণপ্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উতুবপুর-সোলারতাইড় সেতুটি চালু হলে দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি পেরিয়ে নতুন সেতু এখন এলাকাবাসীর স্বস্তি ও উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ