মঙ্গলবার, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২ কোটি টাকা চাঁদা দাবির পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার দুপুরে নগরের বাকলিয়া অ্যাক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহমুদুল হাসান দ্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ নামে পরিচিত সাজ্জাদ আলীর সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমনের’ অনুসারীরাই এ হামলা চালিয়েছে।

ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, গত শনিবার একটি বিদেশি নম্বর থেকে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা করতে চাইলে এককালীন ২ কোটি টাকা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে।’

‘পরদিন একটি বাংলাদেশি নম্বর থেকে আরেক ব্যক্তি ফোন করে জানতে চান, আমি কবে টাকা দেব। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রোববার মধ্যরাতে ওই বিদেশি নম্বর থেকে ‘অপেক্ষা করুন, দেখবেন’ লেখা খুদে বার্তা পাঠানো হয়’, বলেন তিনি।

মামুন বলেন, আমরা থানায় মামলা করেছি। হামলার বিষয়টি আমাদের সংগঠনকেও জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ফোনালাপের সময় ইমন বলেন—‘আমার সম্পর্কে সিএমপি কমিশনারকে জিজ্ঞেস করুন। তাকে আমার ফোন নম্বর দেখান। এখন থেকে ব্যবসা আমরা চালাব। আপনি আর ব্যবসা করবেন না। ব্যবসা করতে চাইলে স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবের বাসায় কী হয়েছে, সেটা দেখুন।’

প্রসঙ্গত, এর আগে চকবাজার থানাধীন নগরের চান্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসভবনে দুই দফা গুলি চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে বড় সাজ্জাদের সশস্ত্র সহযোগীরা এ হামলা চালায়।

মামুন বলেন, প্রায় সাত মিনিটের কথোপকথনের একপর্যায়ে ইমন বলেন, ‘আমরা পুরো চট্টগ্রামে ব্যবসা পরিচালনা করছি। শুধু আপনাকেই ফোন করিনি। আমাদের ছেলেরা গার্মেন্টস, ইন্টারনেট ব্যবসাসহ সবখানেই কাজ করছে। আমরা কারও কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছি না বা কারও টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছি না। আপনি ১৫ থেকে ২০ বছর ব্যবসা করেছেন। যথেষ্ট হয়েছে। এখন আমাদের ছেলেদের পালা। কেউ জেলে আছে, কেউ বাইরে। তাদের দেখাশোনা করতে হবে। এখন থেকে ব্যবসা তারাই চালাবে।’

তিনি আরও বলেন, ইমন আমাকে বলেন—ভাই, আপনাকে দুদিন সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে সব গুছিয়ে নিন। দুদিন পরও যদি দেখি আপনি ব্যবসা করছেন, তাহলে এরপর কী হয়, তা বুঝতে পারবেন।

ডিডিএনের মালিক বলেন, আমার কী করা উচিত জানতে চাইলে ইমন বলেন—ব্যবসা করতে চাইলে ২ কোটি টাকা রেডি রাখবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দেবেন। না হলে ব্যবসা করবেন না। ব্যবসা আমরা চালাব। ছেলেদের জন্য ২ কোটি টাকা রেডি রাখবেন।

ডিডিএনের বিক্রয় বিভাগের প্রধান মো. রবিউল হোসেন রাকিব বলেন, ধারালো অস্ত্রধারী ৩০ থেকে ৩৫ জন যুবক হঠাৎ কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ও কম্পিউটার ভাঙচুর শুরু করে। তারা কার্যালয় থেকে নগদ টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে প্রায় পাঁচ মিনিট পর চলে যায়।

তিনি বলেন, তাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক ছিল।

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় ডিডিএনের ম্যানেজার শামসুদ্দোহা মিনহাজ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের মো. মুসার ছেলে।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন ও একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ অন্তত সাতটি ফৌজদারি মামলার আসামি তিনি।

পুলিশ জানায়, পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুই প্রধান ব্যক্তির একজন মোবারক হোসেন।

এর আগে ‘ছোট সাজ্জাদ’ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন এ গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম গ্রুপটির নেতৃত্ব নিয়ে চট্টগ্রামে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র রাখা, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ