শুক্রবার, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

নবীনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

এম নুরুল আলম সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উপজেলার সাতমোড়া গ্রামের মো. আব্দুল হককে (৬১) পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ফোন দিয়ে জালাল উদ্দিন ওরফে জালাল পাশা প্রতারণা করে ৩৯ পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

শনিবার বিকালে উপজেলা সদরে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের মো. আব্দুল হকের সন্তান গোলাপ মিয়া ওরফে সাদ্দাম দাবি করেন, একই গ্রামের সন্তান জালাল পাশা আগে থেকেই কৌশল করে মো. আব্দুল হকের খোলামেলা রান্না ঘরের কাঠের লাকরির উপর ইয়াবা রেখে সেনাবাহিনীকে ফোন করে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে সেনাবাহিনী এনে ধরিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনের থেকে জানা যায়, মো. আব্দুল হক দীর্ঘ ২৭ বছর প্রবাসে ছিলেন। তিনি একজন সৎ ও ধার্মিক মানুষ। মো. আব্দুল হকের বড় ছেলে মো. গোলাপ মিয়ার সাথে জালাল পাশার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে জালালের স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও গোলাপ মিয়ার অর্বতমানে তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে ভাগিয়ে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। শুধু স্ত্রীকে নিয়ে পালানোই নয়, জমির ব্যবসা করবেন বলে গোলাপ মিয়ার কাছ ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাও নেন বলে জানান গোলাপ মিয়া। স্ত্রী ও টাকার দ্বন্ধ নিয়ে মো. গোলাপ মিয়ার করা মামলায় জালাল জেল খাটার জেরে তাদের মধ্যে পারিবারিক শত্রুতা তৈরি হয়। গোলাপ মিয়া আব্দুল হকের সন্তানদের মধ্যে বড় ও পেশায় জজ কোর্টের একজন আইনজীবী ও গাজীপুরস্থ ল’ কলেজের প্রভাষক। তার তিন ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই আছেন অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি গ্রহণের জন্য। মেজ ভাই সৌদি আরবে ব্যবসা করেন। আর ছোট ভাই দায়রা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছেন। বাড়িতে কেবল তার বৃদ্ধ বাবা-মা থাকেন। এর পর থেকে জালাল উদ্দীন ওরফে জালাল পাশা বিভিন্ন সময় হয়রানি, নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে আসছিল। গোলাপ হোসেন ও তাদের পরিবারকে খুন করে গুম করে ফেলার অডিও রেকর্ডও রয়েছে। জালাল পাশা একজন মাদক কারবারি ও তার অত্যাচারে এলাকার মানুষও অতিষ্ঠ। সে পুলিশের সোর্স ও আওয়ামী লীগের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দাপট দেখাতো। এরই জের ধরে জালাল পাশা গত ২৫ ডিসেম্বর কৌশলে ইয়াবা দিয়ে গোলাপ মিয়ার আব্বাকে সেনাবাহিনী দিয়ে ধরিয়ে দেন।

মামলার এজহারে থাকা ১ নং সাক্ষী রহিম মিয়া বলেন, আমাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর নেয়। আর্মি ও পুলিশ দেখে আমি ভয়ে স্বাক্ষর করি। মো. আব্দুল হক একজন ভালো মানুষ।

গোলাপ মিয়া বলেন, আমার আব্বাকে যে কৌশল করে প্রতারণার মাধ্যমে জালাল পাশা ফাঁসিয়েছে তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে জবানবন্দি নেয়া হউক ও তাকে শাস্তির দাবি জানাই। আমার আব্বাকে জেলা জেল হাজত থেকে মুক্তি প্রদান করা হউক।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ