
মো. হাসান ভূঁইয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের স্থান থেকে ১৩৭টি বিষধর ও নির্বিষ সাপ এবং ৫টি সাপের ডিম উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া এসব সাপ বর্তমানে সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায় অবস্থিত হবিগঞ্জ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের হেফাজতে রয়েছে।
উপযুক্ত ও নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্ধারণ করে শিগগিরই সাপগুলো অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া সাপের মধ্যে রয়েছে ৭০টি পদ্মা গোখরা, ৬০টি কৈয়া গোখরা ও ৫টি দারাস। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৫টি সাপের ডিম। এরই মধ্যে কয়েকটি ডিম থেকে বাচ্চাও ফুটেছে।
লোকালয়ে সাপের উপস্থিতি টের পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য রবি কাস্তা বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও লোকালয় থেকে সাপগুলো ধরে আনেন এবং জীববৈচিত্র্য ফেডারেশনের উদ্যোগে এগুলো হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ভাদৈ এলাকার বন বিভাগ অফিসে সাপগুলো গ্রহণ করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ হবিগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন।
এর আগে, একসঙ্গে ১৩৭টি বিষধর ও নির্বিষ সাপ কোথায় অবমুক্ত করা হবে তা নিয়ে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছিল হবিগঞ্জ বন বিভাগ। প্রথমে সাপগুলো রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করার জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও, পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে সেখানে অবমুক্ত না করে বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
রেঞ্জ অফিসার মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘সাপ বেশি হওয়ায় এগুলো রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকাসহ বিভিন্ন বনের নিরাপদ প্রাকৃতিক স্থানে অবমুক্ত করা হবে।’
লোকালয়ের কাছাকাছি কিংবা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাপগুলো অবমুক্ত করা হবে না। মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি সাপগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে নিরাপদ স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে। উদ্ধার করা সাপগুলোকে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হলে একদিকে যেমন মানুষের ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্যও বজায় থাকবে।











