
মো. হাসান ভূঁইয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের মাধবপুর ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে দুইশতম সিজারিয়ান অপারেশন (সি-সেকশন)। সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারি সেবার পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্যসেবার এই মাইলফলক অর্জন উপলক্ষে হাসপাতাল পরিবার এক আনন্দঘন পরিবেশে কেক কেটে দিনটি উদ্যাপন করেছে।
গ্রামীণ জনপদে নিরাপদ প্রসবসেবা নিশ্চিতকরণে এই অর্জনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ সূত্রে জানা যায়, দক্ষ নেতৃত্ব ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য হাসপাতালে এই নিরাপদ প্রসবসেবা নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে। এই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রেখেছেন গাইনী ও অবস্ বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ নুসরাত জাহান খান, এনেসথেসিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ সুদীপ চৌধুরী এবং শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ রাজীব চক্রবর্তী ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ আবুল হাসনাতের সহযোগিতায় চিকিৎসকদের এই দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এই দুইশততম সিজারিয়ান অপারেশনের অর্জনটি শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, ওটি স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত পরিশ্রম ও সেবার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সাফল্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১১ বছর অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকার পর ৫ জুলাই ২০২৩ ইং তারিখে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুনরায় এই সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালু করা হয়। ওটি আবার সচল করার পর চালুর প্রথম দিনেই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পৌরশহরের কাটিয়ারা গ্রামের প্রসূতি মাতা পাপড়ি রানী পালের সফল সিজার সম্পন্ন করা হয় এবং তিনি একটি সুস্থ কন্যাসন্তান জন্ম দেন। চালুর প্রথম দিনের সেই ঐতিহাসিক প্রথম অপারেশনে মূল দায়িত্বে ছিলেন গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাঃ নুসরাত জাহান খান এবং এনেসথেসিওলজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডাঃ সুদীপ চৌধুরী।
পুনরায় চালুর পর এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুইশততম প্রসবসেবা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হলো।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা সরকারি চিকিৎসাসেবায় সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পুরো কার্যক্রমটি নিয়মিত তদারকি ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ ইমরুল হাসানের সার্বিক নির্দেশনায়।











